ভিন্নজগতের আকর্ষণ: বেসরকারিভাবে প্রায় ১শ’ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রটি সারাক্ষণ নানা জাতের পাখির কোলাহলে মুখরিত থাকে। এর গাছে গাছে দেখা যায় নানান প্রজাতির পাখি। সন্ধ্যা হলেই তারা তাদের নীড়ে ফিরে আসে। ভিন্নজগতে শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি হাজারও বৃক্ষ। এখানে দর্শনার্থীরা গাছের ছায়ায় সারাটা দিন ঘুরে বেড়াতে পারেন। ভিন্নজগতের প্রধান ফটক পার হলেই তিন দিকের বিশাল লেক ঘেরা নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা শেষ হলেই সামনে পড়বে লোহার ১টি ব্রিজ। ব্রিজটি পার হলেই ভিন্নজগতের ভেতর যেন আরেকটি ভিন্নজগত। এখানে রয়েছে আধুনিক বিশ্বের বিস্ময় এবং দেশের প্রথম প্লানেটোরিয়াম। রয়েছে রোবট স্ক্রিল জোন, স্পেস জার্নি, জল তরঙ্গ, সি প্যারাডাইস, আজব গুহা, নৌকা ভ্রমণ, শাপলা চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদের ভাস্কর্য, ওয়াক ওয়ে, থ্রিডি মুভি, ফ্লাই হেলিকপ্টার, মেরি গো রাউন্ড, লেক ড্রাইভ, সুইমিং পুল স্পিনিং হেড, মাছ ধরার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে রয়েছে অন্তত ৫শ’টি পৃথক দলের পিকনিক করার ব্যবস্থা। শুধু ভেতরেই রয়েছে অন্তত ৮/৯শ’ গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। কটেজ রয়েছে ৭টি। রয়েছে থ্রি স্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস। এখানকার জলাশয়ে রয়েছে নৌভ্রমণের সুবিধা। শিশুদের জন্য রয়েছে ক্যাঙ্গারু, হাতি, ঘোড়াসহ নানা জীবজন্তুর মূর্তি। ভিন্নজগতের জলাশয়ের চারধার জুড়ে রয়েছে পরিকল্পিতভাবে রোপিত নানা জাতের শোভাবর্ধনকারী গাছ। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন, বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন এখানে। বগুড়া থেকে ভিন্নজগতে বেড়াতে আসা দম্পতি ফারহানা কবীর ও আহসান কবীর জানান, উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের চেয়ে এই বিনোদন কেন্দ্রে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সব কিছুই সুন্দর। ভিন্নজগতে থাকা-খাওয়ারসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। একই কথা জানান, পঞ্চগড়, নাটোর থেকে আসা অনেকেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ভিন্নজগতে রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বেশকিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। এ ব্যাপারে ভিন্নজগতের মালিক মোস্তফা কামাল জানান, ভিন্নজগত উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনোদন কেন্দ্র। তিনি বলেন, এখানে যারা বেড়াতে আসেন তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের। প্রবেশ মূল্য: ভিন্নজগতের প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। এছাড়া ভেতরের প্রতিটি রাইডের জন্য আলাদা করে ৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। থাকা-খাওয়া: রংপুরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রয়েছে। এখানে থ্রি স্টারসহ বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক হোটেল রয়েছে। ভাড়া ৩শ’ থেকে ৫ হাজার টাকার পর্যন্ত। এ ব্যাপারে ভিন্নজগতের মালিক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘‘দর্শনার্থীদের থাকার জন্য ১টি প্যালেস রয়েছে, যার কক্ষগুলো অত্যাধুনিক। এখানে রাত্রি যাপন ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।’’ দাম সম্পর্কে তিনি জানান, মৌসুমের চাহিদা অনুযায়ী মূল্য নেওয়া হয়ে থাকে। অবস্থান: রংপুর শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।